:

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মধ্য চট্টগ্রাম বন্দরে রেকর্ড সংখ্যক জ্বালানি তেলর জাহাজ

top-news

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরে এলএনজি, এলপিজি এবং অপরিশোধিত জ্বালানি তেল নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া  থেকে রেকর্ড সংখ্যাক জাহাজ ভিড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পর বন্দরে এসেছে পর্যন্ত ২১টি জাহাজ। পাইপলাইনে আছে আরো কয়েকটি জাহাজ। এসব জাহাজ থেকে এ পর্যন্ত ১লাখ ৮০হাজার মে.টন জ্বালানি তেলখালাস করা হয়। এরফলে দেশে জ্বালানি সংকট কমবে এবং শিল্প উৎপাদনে গতিশীলতা বাড়বে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের। 

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন-বিপিসি’র কর্মকর্তারা জানান, ইরানে ইসরাইল ও মার্কিন হামলার পর অস্থির উঠে দেশের জ্বালানি তেলের বাজার। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার জ্বালানি তেল বিপননে রেশনিং ব্যবস্থা চালুসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়।

 এরমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া থেকে একের পর এক জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙ্গর শুরু করে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন দ্রুত এসব জাহাজ থেকে জ্বালানি তেল খালাস  করে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রেণে আনা হয় এবং রেশনিং ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। 

এদিকে অপরিশোধিত জ্বালানি, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস(এলএনজি) ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ছাড়াও বেশকিছু জাহাজ পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য এবং শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত জ্বালানি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙ্গার করে আরো কয়েকটি জাহাজ।

এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা ট্যাঙ্কার বে ইয়াসু নিয়ে এসেছে মনোইথিলিন গ্লাইকেন (এমইজি)। সিঙ্গাপুর থেকে আসা  জাহাজা ’এল্যান্ড্রা স্প্রুস’ ও ’হাফনিয়া ববক্যাট’  নিয়ে এসেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প বয়লারে ব্যবহৃত উচ্চ মাত্রার সালফারযুক্ত ফার্নেস অয়েল।  এছাড়া সিঙ্গাপুর থেকে আসা গ্যাস অয়েল ট্যাঙ্কার ’শিউ চি’  ও ’লিয়ান হুয়ান হু’ এবং মালয়েশিয়া থেকে আসা ’এসপিটি থেমিস’ নিয়ে আসে ডিজেল-জাতীয় জ্বালানি। সবগুলি জাহাজ থেকে জ¦ালানি খালাস চলছে  বলে জানান চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম ।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ৩ থেকে ১০ মার্চের মধ্যে কাতার থেকে আসা তিনটি এলএনজিবাহী জাহাজ- আল জুর, আল জাসাসিয়া ও লুসাইল ইতোমধ্যে তাদের মালামাল খালাস শেষ করেছে। প্রতিটি জাহাজ প্রায় ৬২ হাজার টন এলএনজি নিয়ে এসেছে।

এছাড়া গত ১২ মার্চ আল গালায়েল নামক আরেকটি জাহাজ ২৬ হাজার ১৬৫ টন এলএনজি নিয়ে বন্দরে পৌঁছায়। বর্তমানে জাহাজটি থেকে ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে (এফএসআরইউ) জ্বালানি খালাস করা হচ্ছে। 

অপরদিকে মালয়েশিয়া থেকে আসা মর্নিং জেন ও ওমান থেকে আসা জিওয়াই এমএম ইতোমধ্যে মোট ১৯ হাজার ৩১৬ টন এলপিজি খালাস সম্পন্ন করেছে। আরও কয়েকটি এলপিজিবাহী জাহাজ থেকে এখন কার্গো খালাস করা হচ্ছে। এর আগে ৮ মার্চ ওমান থেকে আসা এলপিজি সেভান ৭ হাজার ৫০০ টন এলপিজি খালাস করছে, যা ৩০ মার্চের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক পেট্রোলিয়াম বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সম্পন্ন হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ও বিমা খরচে চাপ তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানিবাহী জাহাজের আগমন স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বোর্ড সদস্য কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ।

তিনি আরো জানান, দ্রুততার সাথে জ¦ালানি তেল  জাহাজ থেকে খালাস করা যায় সে জন্য বিষয়টি বিপিসি’র সাথে সমন্বয় করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জ্বালানি তেল খালাসে সবোর্চ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা আরো জানান, ভারত থেকে অ্যাঞ্জেল ১১ নামে একটি জাহাজ প্রায় ৪ হাজার টন লুব্রিকেন্ট উৎপাদনের অন্যতম কাঁচামাল বেজ অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভীড়ছে। এছাড়া পাইপ লাইনেও জ্বালানি তেল আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে 'বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন'-এর মাধ্যমে এই ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে এসে পৌঁছাচ্ছে।  সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারতের শিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপো পর্যন্ত বিস্তৃত এই মৈত্রী পাইপলাইনটি প্রায় ১৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ। এই বিশেষ পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি ডিজেল পরিবহন করা হয়ে থাকে।

২০২৩ সালের মার্চ মাসে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই আন্ত:দেশীয় পাইপলাইনটির উদ্বোধন করা হয়। বছরে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে এই পাইপলাইনটির।
 

এর ফলে দেশে আবাসিক ও বাণিজ্যিক খাতে জ¦ালানি তেলের সংকট থাকব না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *